বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজের বাস্তব পথ-স্কিল, সার্টিফিকেট ও অফিসিয়াল প্রক্রিয়া
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কাজ করতে স্কিল, সার্টিফিকেট ও সরকারি প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে? BMET, রিক্রুটিং এজেন্সি ও বাস্তব পথ সহজ ভাষায় জানুন।
শুরু করি বাস্তব গল্প দিয়ে
ধরা যাক রাশেদ। সে 7–8 বছর ধরে প্লাম্বিং আর পাইপ ফিটিংয়ের কাজ করে। ঢাকা, চট্টগ্রাম—অনেক জায়গায় কাজ করেছে।
একদিন তার মাথায় প্রশ্ন আসে— “এই স্কিল নিয়ে কি বিদেশে কাজ পাওয়া যায়?”
রাশেদের প্রশ্ন একটাই না, কয়েকটা—
- •শুধু কাজ জানলেই হবে?
- •কোর্স বা সার্টিফিকেট দরকার?
- •সরকারি কোন অফিসগুলো এই প্রক্রিয়ায় জড়িত?
- •রিক্রুটিং এজেন্সি কোথায় আসে?
- •ভুল করলে ঝামেলা হবে কি?
এই প্রশ্নগুলোই আসলে বাংলাদেশের হাজারো মানুষের বাস্তব প্রশ্ন।
বিদেশে কাজের ভিত্তি: আগে স্কিল
একটা কথা পরিষ্কার— বিদেশে কাজ মানে আগে স্কিল, পরে কাগজপত্র।
যেসব স্কিল সাধারণত চাহিদায় থাকে—
- •ইলেকট্রিক্যাল
- •প্লাম্বিং
- •ওয়েল্ডিং
- •মেকানিক্যাল
- •ড্রাইভিং
- •কেয়ারগিভিং
- •কনস্ট্রাকশন
- •কিছু আইটি ও টেকনিক্যাল কাজ
যেগুলো হাতে করে দেখানো যায়, সেগুলোই আসল শক্তি।
স্কিল শেখার পর আসে “প্রমাণ” প্রশ্নটা
বিদেশে নিয়োগের সময় শুধু বলা হয় না— “তুমি কাজ পারো”
বরং প্রশ্ন আসে— “তার প্রমাণ কী?”
এই প্রমাণ হতে পারে—
- •কোর্স শেষ করার সার্টিফিকেট
- •দক্ষতা যাচাই (Assessment)–এর সার্টিফিকেট
সার্টিফিকেট মানে শুধু কাগজ না, এটা তোমার স্কিলের পরিচয়পত্র।
সার্টিফিকেট কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়?
বাস্তবে সার্টিফিকেট কাজে আসে যখন—
- •রিক্রুটিং এজেন্সি প্রার্থী বাছাই করে
- •বিদেশি নিয়োগকর্তা প্রোফাইল দেখে
- •সরকারি অফিসে ফাইল প্রসেস হয়
স্কিল থাকলে কাজ সম্ভব, স্কিল + সার্টিফিকেট থাকলে সুযোগ বাড়ে।
এবার আসি সরকারি অফিসগুলোর ভূমিকায়
বিদেশে কাজের প্রক্রিয়ায় কিছু সরকারি সংস্থা জড়িত থাকে। এরা নিজেরা চাকরি দেয় না, বরং পুরো প্রক্রিয়াটা কাঠামোর মধ্যে রাখে।
Bureau of Manpower Employment and Training (BMET)
BMET সাধারণত— - বিদেশগামী কর্মীদের তথ্য নিবন্ধন - স্কিলভিত্তিক ট্রেনিং ও ওরিয়েন্টেশন - কিছু সরকারি স্কিম বা উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজভাবে বললে— বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ার একটি অফিসিয়াল দরজা।
Probashi App (প্রবাসী অ্যাপ)
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারিভাবে চালু হয়েছে Probashi App। এখানে সাধারণত পাওয়া যায়— - বিদেশে কাজ সংক্রান্ত তথ্য - নোটিশ ও আপডেট - অভিযোগ বা তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ এটা চাকরির গ্যারান্টি না, বরং তথ্য জানার একটি ডিজিটাল মাধ্যম।
Bangladesh Overseas Employment and Services Limited (BOESL)
BOESL একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা। এদের কাজ সাধারণত— - নির্দিষ্ট দেশ বা প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগ - সরকার–টু–সরকার উদ্যোগে অংশগ্রহণ সব সময় সুযোগ থাকে না, কিন্তু যখন থাকে, তখন এটি একটি অফিসিয়াল চ্যানেল।
রিক্রুটিং এজেন্সি কোথায় আসে?
রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশি নিয়োগকর্তা ও কর্মীর মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করে। তারা বিদেশি চাকরির চাহিদা অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন ও প্রক্রিয়া সমন্বয় করে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— বিদেশে যাওয়ার জন্য যে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া হয়, সেগুলো সাধারণত BMET-এর আওতায় নিবন্ধিত ও অনুমোদিত থাকে।
BMET এখানে কী ভূমিকা রাখে?
BMET মূলত—
- •রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নিবন্ধন ও তদারকি করে
- •কোন এজেন্সি বৈধভাবে কর্মী পাঠাতে পারবে, তা নির্ধারণ করে
- •বিদেশে যাওয়ার সময় কর্মীর তথ্য BMET সিস্টেমে রেজিস্টার করে
সহজভাবে— BMET নিশ্চিত করে প্রক্রিয়াটা অফিসিয়াল কাঠামোর ভেতরে আছে।
Verified Recruiting Agency বলতে কী বোঝায়?
একটি রিক্রুটিং এজেন্সি সাধারণত—
- •BMET থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত
- •নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়নযোগ্য অনুমোদনের আওতায়
- •বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদার বিপরীতে কর্মী পাঠাতে পারে
Verified মানে— এজেন্সিটি BMET-এর তালিকাভুক্ত কাঠামোর মধ্যে কাজ করছে।
রিক্রুটিং এজেন্সি বাস্তবে কী দেখে?
রিক্রুটিং এজেন্সি সাধারণত দেখে—
- •প্রার্থী বাস্তবে কাজটা পারে কি না
- •প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে কি না
- •বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদার সাথে প্রোফাইল মেলে কি না
চাহিদা আর দক্ষতার মিল দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া মানে কী?
এর মানে—
- •বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদা অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন
- •পুরো প্রক্রিয়াকে BMET-এর কাঠামোর মধ্যে রাখা
- •কাগজপত্র ও প্রসেসিং সহজ করা
একটা বিষয় পরিষ্কার— রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ বানিয়ে দেয় না। স্কিল না থাকলে সুযোগ তৈরি করতে পারে না।
সবাই কি একই পথে বিদেশে যায়?
না। বাস্তবতা একরকম না।
বাংলাদেশ থেকে মানুষ যায়—
- •সরকারি উদ্যোগে
- •রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে
- •নির্দিষ্ট প্রকল্প বা স্কিমে
- •নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী
একজন যেভাবে গেছে, অন্যজনও ঠিক সেভাবেই যাবে—এই ধারণা সব সময় কাজ করে না।
কোথায় মানুষ বেশি বিভ্রান্ত হয়?
বিভ্রান্তি হয় যখন—
- •স্কিলের আগে বিদেশ ভাবা হয়
- •সার্টিফিকেট আর কোর্স এক জিনিস ধরা হয়
- •এক জায়গার কথা শুনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়
- •পুরো প্রক্রিয়া না বুঝে এগোনো হয়
এই জায়গাগুলোতেই ঝামেলা তৈরি হয়।
বাস্তবসম্মত চিন্তার ফ্রেমওয়ার্ক
নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করলে অনেক সমস্যা কমে—
- আমি কোন কাজটা বাস্তবে পারি?
- সেটা কি হাতে করে দেখাতে পারি?
- আমার স্কিলের প্রমাণ কী?
- যে পথে যাচ্ছি, সেটা কি বুঝে যাচ্ছি?
- সিদ্ধান্তটা কি আমি নিজে বুঝে নিচ্ছি?
এই ব্লগের উদ্দেশ্য
এই লেখার উদ্দেশ্য—
শুধু বাস্তব সিস্টেমটা বোঝানো, যাতে স্কিল, সার্টিফিকেট, সরকারি অফিস ও প্রক্রিয়ার সম্পর্কটা পরিষ্কার হয়।
শেষ কথা
বিদেশে কাজ মানে—
- •আগে স্কিল
- •তারপর প্রমাণ (সার্টিফিকেট)
- •এরপর সঠিক ও বোঝা প্রক্রিয়া
এই তিনটা পরিষ্কার থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
এই লেখাটা যদি একজন মানুষকেও ভুল বোঝাবুঝি থেকে বাঁচাতে পারে, তাহলেই এর উদ্দেশ্য পূরণ।
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও যাচাইকৃত তথ্য
এই লেখাটি BekarJobs টিম কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য উৎস, সরকারি নোটিশ ইত্যাদি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। সর্বোচ্চ নির্ভুলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হলেও, বাস্তবে প্রতিষ্ঠান, ট্রেড, অঞ্চল ও সময়ভেদে এবং কাজের অভিজ্ঞতায় পার্থক্য থাকতে পারে।
BekarJobs বিশ্বাস করে—কারিগরি শিক্ষা ও স্কিল সিস্টেমের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হয়, যখন মাঠপর্যায়ে যুক্ত প্রশিক্ষক, পরীক্ষক, RPL assessor, টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা যুক্ত করা যায়।
আপনি যদি এই বিষয়ের সাথে পেশাগতভাবে যুক্ত থাকেন, তাহলে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা বা প্রয়োজনীয় সংশোধনী তথ্য আমাদের জানাতে পারেন।
ইন্ডাস্ট্রি বাস্তবতা: চাহিদা, কাজের ধরন ও সাধারণ ভুল ধারণা

বাংলাদেশে স্কিল সিস্টেম কে নিয়ন্ত্রণ করে- BTEB, NSDA ও লেভেল সিস্টেম
